Featured Video Play Icon

দ্যা আল্টিমেট কুয়াকাটা ভ্রমণ ডায়েরী

হ্যালো বন্ধুরা, আসসালামু আলাইকুম।  সবাইকে নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়ে আমি লাবিব ইত্তিহাদুল শুরু করচ্ছি ২০১৯ সালের আমার প্রথম ভ্রমণ গল্প।

আর এবারের ব্লগে আপনাদের নিয়ে যাব সাগরকন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৌকতে। সাথে ট্যুর এ আমাদের কেমন খরচ হয়েছিল, কিভাবে গিয়েছিলাম, কোথায় থেকেছি, কোথায় ক্ষাওয়া দাওয়া করেছি, কোথায় ঘুরেছি ইত্যাদি কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করব। সাথে কিছু সুবিধা ও অসুবিধার কথা বলব।

তবে ভিডিও শুরুর আগে ১টা কথা বলে নেই, যে কোন ট্যুরিস্ট স্পটে যাওয়ার আগে সবাই বেশি করে পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল, চিপ্স এর প্যাকেট নিয়ে যাবেন এবং সেগুলো ট্যুরিস্ট স্পট গুলোতে ফেলে আসবেন। আশাকরি এতে করে আমরা ট্যুরিস্ট স্পট গুলোর সৌন্দর্য দ্রুত নষ্ট করতে পারব। আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যাতে কল্পনাও করতে না পারে যে এখানে কোনদিন ট্যুরিস্ট স্পট ছিল।

তো আসুন, মূল জার্নি টা শুরু করি

আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল থেকে। বিকাল ৫ টার  সুন্দরবন ৯ লঞ্চে। পটুয়াখালিগামী লঞ্চ গুলো সাধারনত সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যেই লঞ্চ ঘাট ত্যাগ করে। এর বাইরে আপনি চাইলে বাসে অথবা বরিশালের লনে বরিশাল গিয়ে সেখান থেকেও বাসে কুয়াকাটা যেতে পারেন।

বাসের থেকে লঞ্চে গেলে রাতের জার্নি টা বেশি মজার হয় এবং অনেক বেশি রিলাক্স থাকা যায়। তাই আমাদের প্রথম পছন্দ ছিল লঞ্চে যাওয়া এবং সেটাই আমরা করেছি।

সুন্দরবন ৯ লঞ্চে নন এসি ডাবল ক্যাবিন এর ভাড়া ২ জনের টিকিট সহ ২০০০ টাকা এবং জনপ্রতি ডেক এর ভাড়া ৩০০ টাকা করে।

এবার লঞ্চে খাবারের ব্যাপারে বলি, লঞ্চের ক্যান্টিন থাকে একবারে ইঞ্জিনের সাথে এবং খুব একটা পরিষ্কার থাকে না। তাই আমি সাজেষ্ট করব ক্যাবিন নিলে, ক্যাবিনেই খাওয়া দাওয়া করার জন্য। এক্ষেত্রে ক্যাবিন বয় রা খাবার রুমে দিয়ে যাবে, আর জনপ্রতি খাবার অর্ডার না করে অর্ডার দিয়ে আলাদা মুরগী বা মাছ রান্না করালে খাবারের দাম তূলনামূলক কম পরে যদি সদস্যা সংখ্যা অন্তত ৪ জন অথবা বেশি হয়।

আমরা কার্ড খেলে আর ডেকে ঘুরে ঘুরে, আড্ডাক গানে রাত পার করে দিলাম। আমাদের লঞ্চ পটুয়াখালি গিয়ে পৌছায় ভোর সারে ৪ টার দিকে।

হাল্কা আলো ফুটবে এমন অবস্থায় আমরা অটো রিজার্ভ নয়ে চলে যাই পটুয়াখালি বাসস্ট্যান্ড। সেখান থেকে বাসে কুয়াকাটার ভাড়া ১৪০ টাকা জনপ্রতি। লোকাল বাস কিন্তু সার্ভিস যতটা খারাপ শুনেছিলাম আমার কাছে অতটা খারাপ দৃশ্যমান হয়নি।

প্রায় আড়াই ঘন্টা সময় লেগেছে বাসে পটুয়াখালি থেকে কুয়াকাটা পৌছাতে, তবে অবাক লেগেছে কলাপোড়া নামক স্থানে বাসের প্রায় আধা ঘন্টার যাত্রা বিরতী। মনে হচ্ছিল যেন কুমিল্লা স্টপেজ।

কুয়াকাটা পৌছে শুরু করলাম থাকার যায়গা খোঁজা। ইচ্ছা ছিল সি ভিউ আছে এমন কোন রুম নেয়া।  হাল্কা চোখ বুলাতেই পেয়ে গেলাম সমুদ্রের দিকে বারান্দাসহ একটা ডাবল বেড এর একটা রুম।

ভাড়া ৩০০০ লেখা থাকলেও, আমাদের থেকে নিল ১৫০০ টাকা। আসলে ভাড়া ডিপেন্ড করে ট্যুরিস্ট এর প্রেসার কেমন সেটার উপর। আর এটাই ছিল একমাত্র সি ভিউ রুম সহ হোটেল, এর বাইরে আর কোন হোটেল চোখে পরেনি যেখান থেকে সমুদ্র দেখা যায়।

রুম ঠিক করেই চলে গেলাম নাস্তা করতে, কারণ তখনো আমরা সকালের নাস্তা করি নি। আসলে সময় ই পাইনি।

নাস্তা ও দুপুরের খাওয়া দাওয়ার জন্য সবচাইতে ভালো সার্ভিস পেয়েছি হোটেল খাবার ঘর নামের একটু হোটেলে।

কুয়াকাটা সী বিচ অনেকটা কক্সবাজার এর মতই দেখতে, শীতকাল থাকায় ঢেউ এর পরিমাণ অনেক কম। তবে কক্সবাজারের সাথে বেসিক পার্থক্য হচ্ছে  কক্সবাজারে শুধু ফটোগ্রাফার রা যন্ত্রনা দেয়, আর এখানে যন্ত্রনা দেয় বাইকার রা।

কক্স বাজারে ডিএসএলআর ছবির দাম ৫ টাকা, এখানে প্রতি ছবি ১০ টাকা!

Labib Ittihadul
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। ছবিঃ স্বাধীন

১২ টা বা ১৮ টা স্পট ঘুড়িয়ে দেখাবে বলে অএক বাইক ড্রাইভার আপনাকে এপ্রোচ করবে, ভুলেও এদিকে যাবেন না। কারণ ১২ টা স্পট আসলে এইস্ট করে না। এগুলা একটার সাথে আরেকটা এত কাছাকাছি যে আলাদা করে এত টাকা দিয়ে ঘুরার কিচ্ছু নাই।

তো আমরা যা করলাম, বাইক দামাদামি করে ১৮০ টাকা জনপ্রতি ঘুরে কন্ট্রাক্ট করে ঘুরে আসলাম লাল কাকড়ার চর, ঝাউবন, লেবুর চর এবং আন্ধারমানিক মোহনা। এর মাঝে বাইক থামিয়ে হাল্কা করে শুটকি পল্লি ঘুরেছি, আরো কিছু নাম না থাকা স্পটে থেমেছি, অথচ জানা না থাকলে ১৮০ টাকার যায়গায় ৮০০ টাকা করে গুনতে হতো আমাদের। ৫ জনে ১৮০ করে ৯০০ টাকা আসলেও বখশিস সহ দিতে হয়েছে ১০০০ টাকা।

ঝাউবন পার হওয়ার সময় আপনার বাম পাশে পরবে সুন্দরবন আর ডান পাশে পরবে ঝাউবন। আর সমুদ্রের পারে বাইকে ঘুরাঘুরি অস্বাভাবিক মজার এবং আনন্দের।

এছাড়া লাল কাকড়ার চরে কাকরার ঝাক দেখা আসলে কপালের ব্যাপারে। একদিন সারাদিন টাইম দিলে হয়ত সম্ভব, তবে অনেক দূর থেকে তুলতে হবে ছবি। লোকালদের কাছে শুনেছি, কাকড়ার কাছে যাওয়া লাগে না, অস্তিত্ব টের পেলেই পালিয়ে যায় দুষ্টু কাকড়া গুলো।

আন্ধারমানিক মোহনা থেকে ফেরার সময় সামনের দিকে ডান সাইডে সূর্য টা অস্ত যাচ্ছিল। কি যে ভালো লাগচ্ছিল সেটা বলে কয়ে বোঝানো যাবে না। সমুদ্রের হীম করা ঠান্ডা বাতাস, বুক ভর্তি অনন্দ আর উচ্ছাস। যে কারো মনকে নাচিয়ে তোলার স্বামর্থ রাখে।

তবে আপনি যদি বাইক ড্রাইভ করতে পারেন, তবে ঘন্টা হিসেবে বাইক ভাড়া নিয়ে চালাতে পারেন বীচে বা এলাকার মধ্যে। ট্যুরিস্ট পুলিশ যথেষ্ট ফ্রেন্ডলি। অহেতুক কাগজপত্র চেকিং এর নামে কোন রকমের ঝামেলা করবে না, উলটা আপনাকে সহযোগীতা করতে ট্যুরিষ্ট পুলিশ সর্বদা ততপর।

তো প্রথমদিন রাতে আমরা সন্ধ্যার পর থেকে মানুষ কে জ্বালিয়েছি। বিভিন্ন অজানা অচেনা মানুষের সাথে, অপরিচিত গ্রুপের সাথে বসে গান বাজনা করেছি, আই মিন ভরপুর মজা নিয়েছি। ফূর্তি করেছি।

পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই একটা অটো ভ্যান গাড়ি ভাড়া নিয়ে চলে গেলাম বৌদ্ধ মন্দীর দেখতে। শহরের ধুলাবালি পার হয়ে গ্রামের রাস্তা, এরপর দুপাশে ধানক্ষেতের মনমাতানো বাতাস আর চোখ জুরানো দৃশ্য দেখতে দেখতে ঘন্টা দেড়েকের মধ্যে পৌছে গেলাম বৌদ্ধ মন্দির। বাউন্ডারি করা  মন্দীরের ভেতর সুনশান নিরমতা। জুতা খুলে প্রবেশ করতে হয়, টিকিট ১০ টাকা করে।

মন্দীরের পেছনে রয়েছে একটু প্রাচীন একটি কূপ। এর ইতিহাস আমার জানা নেই তবে বাইক এ ঘুরতে গেলে এই কূপ টাও তারা কাউন্ট করে একতি স্পট বানিয়ে ফেলেছে, আলাদা টাকা চার্জ করে। মন্দীরের সামনে মেলার মত কিছু স্টল আছে, সেগুলাও তাদের হিসাবে আলাদা ১টা স্পট। আশ্চর্য অবস্থা!!

ছোট্ট টিম হলেও ট্যুর টা মজার ছিল। প্রতিটা মুহূর্ত মজার আর আনন্দময় ছিল,

তো এই ছিল এবারের কুয়াকাটা ট্যুর। ঢাকা থেকে যাওয়া ও ফেরা সহ এই সলো ট্রীপে আমাদের নীট খরচ হয়েছিল জনপ্রতি ৩৫০০ টাকা করে।  আর ভিডীওটি কেমন লাগলো বা কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন, ভালো লাগলে লাইক ও না লাগলে ডিজলাইক বাটন তো আছেই, রেগুলার ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করতে পারেন ইচ্ছে করলে, আর ভিডিও শেয়ার এর কথা বাদ ই দিলাম, কারণ আমরা বাংলাদেশীরা ফানি বা রোস্টিং ভিডিও বাদ দিয়ে ট্রাভেল ভিডিও ব্লগ ফেসবুকে শেয়ার করলে ব্যাপার টা কেমন যেন হয়ে যায়, তাই না?

তো সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আবার হয়ত আড্ডা হবে নতুন কোন প্লেস এর নতুন কোন লেখায়। আল্লাহ্‌ হাফেজ

Leave a Reply