Featured Video Play Icon

নরসিংদী ঘোড়াশাল ভ্রমণ আর ছোট্ট দূর্ঘটনা

আজকে আপনাদের নিয়ে যাব ঢাকার খুব কাছেই নরসিংদী জেলার পলাশ উপজেলা তথা ঘোড়াশাল। সেখানে কি আছে?
নরসিংদী ঘোড়াশালের মূল আকর্ষণ হচ্ছে লক্ষন সাহার জমিদারবাড়ি, সাথে নয়ানাভিরাম গ্রাম আর ঘোরাশাল রেল ব্রিজ ইত্যাদি। তবে আসল কথা হচ্ছে, সামনে রোজা আর তার সাথে আসচ্ছে ঝর্ণার মৌসুম। সব বিবেচনায় রেখে অশান্ত মনকে একটু শান্ত করতে আর ঢাকা শহরের এই জ্যাম ধূলাবালি পেপু আওয়াজ থেকে একটু মুক্তির আশায় ভিন্ন পথে শীতলক্ষ্যা নদী হয়ে আজকের এই ঘোড়াশাল যাত্রা।
তো প্রথমেই দূর্ঘটনা! কালীগঞ্জ থেকে নৌকায় উঠার পর আমার ট্যুর পার্টনার, মানে আমার জীবনের শত্রু, এই যে ইনি, যাকে মোটামুটি সব ট্যুরে আমার সাথে দেখেন, এই পাকনা একটা বলহেট এর সাথে পেছন থেকে হঠাত মাথায় বাড়ি খেয়ে পরে যায় নদীতে! বোনাস হিসাবে ইনি সাতারের স’ও জানেন না। কপাল ভাল পরে যাওয়ার সাথে সাথে তাতক্ষনিক বলহেড এর ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়, আর আশে পাশে থাকা ছোট নৌকার সহযোগীতায় মুতামুটি লেভেলের পানি খাওয়ার পর উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
আর ঘটনাটা ঘটে আমরা আমাদের রিজার্ভ করা ট্রলারে উঠার মিনিট পাচেক পরেই।

তবে যাইহোক, অভিজ্ঞতা টা দরকার ছিল। নদীতে ঘুরাঘুরির সময় লাইফ জ্যাকেট সাথে রাখা কতটা জরুরী, সেটা অবশ্যই বোধগম্য হয়েছে।
এবার চলে যাচ্ছি যাত্রার শুরুতে,
আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম ঢাকা এয়ারপোর্ট রেলস্টেশন থেকে। এয়ারপোর্ট এর ঠিক অপজিটেই রেলওয়েস্টেশন। ট্রেনের নাম কর্ণফুলী। ট্রেনে উঠার ৩০ মিনিটের মধ্যেই আমরা পৌছে যাই আমাদের গন্তব্য আড়িখোলা স্টেশনে। আড়িখোলা ষ্টেশন থেকে অটো রিক্সায় কালীগঞ্জ গুদারাঘাট ঘাট। সেখানেই সকালের নাস্তা, আর নাস্তার পর শুরু হয় রিজার্ভ ট্রলারে করে আমাদের যাত্রা।

আমরা ট্রলার থেকে যেখানে নামলাম যায়গার নাম উকিল বাড়ি, সেখান থেকেই আসল গ্রামের রাস্তা শুরু। গ্রাম তো আমরা সবাই চিনি, গিয়েছিও। কিন্তু অনেকদিন ঢাকায় বন্ধ থাকার পর একটু খোলা বাতাস, রাস্তায় শুকোতে দেয়া খরের গন্ধ, বাতাসে দোল খাওয়া আধাপাকা ধান, চারিদিকে গাছ। এইসব দৃশ্য যে মনের মধ্যে কি রকম একটা শান্তি দেয়, সেটা যে যায় একমাত্র তার কাছেই বোধগম্য। মুখে বলে কোনভাবেই প্রকাশ করা সম্ভব না।
পায়ে হেটে জমিদাব বাড়ি পর্যন্ত পৌছাতে আমার সময় লেগেছে ১০ মিনিটের মত। রাজবাড়ির আকার গাজীপুর এর ভাওয়াল রাজার রাজবাড়ির মত এত্ত বড় না, ৩ ভাগের ১ ভাগ হবে হয়ত। তবে এর কারুকার্য যে কোন মানুষকে মুগ্ধ করবেই। এত বছর আগে মানুষ এই ডিজাইন গুলো এতো নিখুত ভাবে কিভাবে করত, সেটা চিন্তাও করা যায় না।

রাজবাড়ির সাইডে আছে একটি ভাঙ্গা বাড়ি, যা রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে প্রায় ধ্বংসাবশেষ এর কাছাকাছি পৌছে গেছে। আর রাজবাড়ির ভেতর দিকটা অনেকটা ভুতের বাড়ির মত। কেমন যেন গা ছমছমে একটা পরিবেশ আর পুরাতন একটা গন্ধ। ছাদের ঢালাই এর দিকে তাকালেও কেমন একটা অতি পুরাতন অনুভূতি পাওয়া যায়।
রাজবাড়িতে ঘুরতে যাওয়ার অন্যতম আকর্ষণ ছবি তোলা। সবাই যখন ছবি তোলায় ব্যাস্ত, আমি নিচ্ছিলাম ভিডিও।
আমরা পাশের পুকুরে কেউ কেউ গোসল করেছি। আর দুপুরের খাওয়া দাওয়ায় করেছি এই রাজবাড়িতেই। রান্নার আয়োজন সহ ট্যুর এর আয়োজন করেছিল ঘোড়াশালের বন্ধু রুবেল ভাই। তবে চাঁদপুর এর ইলিশ খুব মিস করচ্ছিলাম মনে মনে।

রাজবাড়িতে বেশ কিছুক্ষন ঘুরাঘুরি করে, খাওয়া দাওয়া করে, আড্ডা দিয়ে আমরা ছুটে গেলাম ঘোড়াশাল রেলওয়ে ব্রিজের দিকে। সুন্দর পরিচ্ছন্ন একটা ব্রিজ। আর এর সবচাইতে আকর্ষনীয় ব্যাপার হচ্ছে ব্রিজের সাইডে হাটার আস্তা। রডের ফাক দিয়ে হাটার সময় নিচের কি আছে দেখা যায়। নিচের দিকে তাকিয়ে হাটতে অদ্ভুত ভাল লাগে।
এছাড়া ব্রিজের উপর পর্যাপ্ত বাতাস, আর ঘুরতে আসা মানুষদের ছবি তোলার জন্য সুন্দর একটা প্লেস। এলাকার ছেলেপেলেরা প্রতিদিন বিকালেই ভীর জমায় এখানে। সেখানে বসেই পরবর্তী ট্যুর টাঙ্গুয়ার হাওড়, নিলাদ্রী লেক নিয়ে বেশ কথাবার্তা হলো।

তো এই ছিল আমাদের ১ দিনের অতি সংক্ষিপ্ত নরসিংদী ঘোড়াশাল ট্যুর। ট্যুরের খরচ ছিল জনপ্রতি ৩০০ টাকা। কারণ নৌকা রিজার্ভ এর সম্পূর্ণ বিল দিয়েছিল রুবেল ভাই। এটা ছিল রুবেল ভাই ও ভাবীর দাওয়াতে একটু বিশেষ পিকনিক টাইপের ট্যুর। আবার লিখব নতুন কোন প্লেস এর নতুন কোন গল্প নিয়ে। এই কামনায় বিদায় নিচ্ছি, আমি লাবিব ইত্তিহাদুল।

Leave a Reply