নীরীতা এবং

নীরীতা’র সৎ বাবা নীরীতাকে বলেছে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে। কারণ সৎ বাবার বন্ধুর ছেলেকে বিয়ে করতে কোনভাবেই রাজী হচ্ছে না নীরীতা। ছেলেটা স্টাডি কম্পলিট করে স্টাব্লিসড ব্যাবসায়ী। ছেলেটা নীরীতার থেকে ৮/৯ বছরের বড়।

নীরীতা ভালবাসে তার ক্লাসমেট রাজু কে। রাজুর লেখাপড়া শেষ হতে আরো এক বছর বাকি। তারপর চাকরী পাওয়া ও স্টাব্লিসড হওয়াতে ঢের দেরী। এই মুহূর্তে রাজুকেকে বিয়ে করে রাজুর বাসায় ওঠাও সম্ভব না। রাজু নিজেই থাকে মেসে।

নীরীতা ফোন করে সজীবকে। সজীব একসময় নীরীতাকে ভালবাসত, এখন আর বাসে না। ক্জুযায়াল যোগাযোগ ছাড়া আর কোন কথা হয় না তাদের। সজীব খোঁচা ছাড়া অন্য কোন সমাধান দিতে পারে না। নীরীতা আরো হতাশ হয়।

নীরীতা’র ,মা সারাদিন সর্বশেষ স্বামীর ঝারির উপর থাকে। মেয়েকে রাজি করানোর সম্পূর্ণ দ্বায়ীত্ব এই ভদ্রমহিলার। নাহলে তাকেও বাকি জীবন একা থাকতে হবে। অথচ একসময় মহিউদ্দিনের থেকেও তাকে বেশি ভালবাসতেন এই লোকটা।

নীরীতা’র আসল বাবা মহিউদ্দিন অগ্রণী ব্যাংক এ আছেন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার হিসাবে। অন্যের হাত ধরে স্ত্রী চলে যাওয়ার পর আর বিয়ে করেন নি তিনি। পূরাতন সৃতি নিয়েই বেঁচে আছেন। সাবেক স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানের উপর উপর্যুপরি ডিসিশন তৈরী না তিনি। তাদের ভাল তারা নিজেরাই বোঝে।

নীরীতার পাড়াত বয়ফ্রেন্ড রাতুল এখনো ভবঘুরে। নীরীতাকে সে অনেক ভালবাসত। এখনো হয়ত বাসে। সে নীরীতাকে হেল্প করতে চায়, কিন্তু নীরীতাকে হাত বাড়াতে হবে আগে। চুন খেয়ে মুখ পোড়া রাতুল এখন রিস্ক নিতে চায় না।

নীরীতা এমনিতেই অনেক টেনশনে আছে। ব্যাপক জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে জীবন। কি নিবে কি বাদ দিয়ে, সে খুব কনফিউজড। তার উপর সৎ চাচাত ভাইটা চায় না নীরীতার বিয়ে হোক। না চাওয়ার কারণ সমাজের কারো জানা নাই। এই কারণগুলো সমাজের বাইরে। ওরা সৎ। ওরা সৎ ই থেকে যায়। সৎ কখনো আপন হয় না।


লাবিব ইত্তিহাদুল

 

Cover Image by Harsha K R

৯৩১০ টি সর্বমোট হিট ৬ টি আজকের হিট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *