Kamlapur Railway Station - Bangladesh

টিটি চক্রের বিরম্বনা – জেলে ঢুকতে ঢুকতে বেঁচে যাওয়া

গতকালের ট্রেন জার্নি ও টিটি চক্রের বিরম্বনা – জেলে ঢুকতে ঢুকতে বেঁচে যাওয়া

গাজীপুর থেকে কমলাপুর আসব। ২০ টাকার কমিউটারের টিকিট কাটলাম, কিন্তু প্রচন্ড ভীড়ের কারণে উঠতেই পারলাম না।
তো, টিকিট নিয়ে আবার কাউন্টারে গেলাম। কাউন্টার থেকে বল্ল, ১০ মিনিট পর তুরাগ আছে, ১৫ টাকা টিকিট। এই টিকিট’ই হবে, কোন সমস্যা নাই।

তো আমি নির্দিধায় সেই টিকিটেই কমলাপুর ষ্টেশনে নামলাম। বের হবার সময় টিকিট চেক হচ্ছিল, আমি আমার টিকিট দেখালাম। গুন্ডা গোছের মধ্য বয়সী টিটি বল্ল, এই টিকিট ক্যান? সাইডে আসেন। বলে আমাকে অনেকটা অশোভন ভাবেই অফিস রুমে নিয়ে গেল। সেখানে গিয়ে দেখি আরো ২ জন, যাদের কাছে কোন টিকিট ই নাই।

টিকিট ছাড়া সেই দু’জন টিটি কে মামা ডাকতে ডাকতে কোনরকমে ১০০ টাকা হাতে ধরায় দিয়ে চলে গেল।

এবার আমার পালা।
টিটি আমাকে হঠাৎ তুই তুকারি শুরু করল, বল্ল ৯৩০ টাকা দে এক্ষুনি। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ৯৩০ টাকা কেন?
টিটি বলে, ট্রেনের ভাড়া।

আমি বল্লাম, ট্রেনের ভাড়া + ১০০% জরিমানা যোগ করলেও তো ৩০ টাকা হয় মোটমাট। ৯৩০ কেন?
সে বলে, রাজশাহীর ভাড়া দিতে হবে।

আমি বল্লাম, তুরাগ গাজীপুর থেকে যাত্রা শুরু করে, আমি রাজশাহীর ভাড়া দিব না, উপরন্তু আমার কাছে টিকিট আছে।

টিটি বলে, তুই বেশি কথা কস, তোরে জেলে ভরুম। ঐ জেলে ঢুক। দেখবি কত টাকা আহে। ব্লা ব্লা ব্লা

আমি ফোন বের করলাম, টিটি কাউকে ফোন দিতে নিষেধ করল, ফোন কেড়ে নেয়ার অবস্থা। আমি বল্লাম, আমার বাসা কাছেই, টাকা তো আমার সাথে নাই, বাসা থেকে নিয়ে আসতে বলব।

টিটি এবার Abbu নামে সেভ করা দেখে ফোন দিতে দিল। আমি আব্বুকে সংক্ষেপে ঘটনা বল্লাম। বলার সময় টিটি আমার থেকে ফোন নিয়ে কথা বলা শুরু করল যে, টাকা লাগবে। তো শেষমেশ আব্বু বলার পর কোন টিকিট/জরিমানা ছাড়াই আমাকে যেতে দিল।
পরে জানতে পারলাম, এটা একটা চক্র। তাদের কাজই হচ্ছে, এভাবে জেলে ঢুকানোর ভয় দেখিয়ে টাকা নেয়া। এই টাকার কোন রিসিট হয় না।

বাসায় আসার পর আব্বু বল্ল, ‘দেবদাস হইতেছ নাকি? কালকেই স্যালুনে যাবা’।

২৩৩৭৫ টি সর্বমোট হিট ৩ টি আজকের হিট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *