Siam Sunjary

হোস্টেল জীবন – বন্ধু ডালিম কুমার আকা সিয়াম সাঞ্জারী

মেট্রিক পরীক্ষার শেষ দিন, আগামীকালের পরীক্ষাটা দিয়েই সবাই যার যার বাসায় চলে যাব। হোস্টেল থেকে যখন বিদায় নিচ্ছিলাম, ​সবাইকে আমার একটা  ডায়েরী দিয়ে বলেছিলাম, কিছু একটা লিখে দিতে। যাতে অন্তত কিছু লিখিত সৃতি নিয়ে যেতে পারি সঙ্গে করে। এখনকার দিনে যদিও ছেলে/মেয়েরা টী শার্টে নাম লিখে নিয়ে যায়, এটা আমিও করেছি আরো ছোট বেলায়, কিন্তু টিকেনি। কাগজে লেখা আসলে লেখাই। যাইহোক, বিদায় হিসাবে বা আর কোনদিন দেখা না’ও হতে পারে এই জীবনে, সেই হিসাবে সবাই সেদিন অনেক ভাল ভাল কথা লিখেছিল ডায়েরীতে।

প্রায় সব কথার সারমর্ম ছিল, ভাল থাকা, যোগাযোগ রাখা, জীবনে সফল হওয়া, ভুলে না যাওয়া এবং ভুল গুলোকে ক্ষমা করে দেয়া। কিন্তু এক হারামী সালা আমার ডায়েরীতে লিখছিল, “লাবিব, তোর সাথে অনেক খারাপ ব্যাবহার করছি, তোকে অনেক মারছি, অনেক ডিস্টার্ব করছি, তাই বলে তোর কাছে আমি ক্ষমা চামু না, কারণ তুইও আমারে কম জালাস নাই। অনেক জ্বালাইছস, অনেক অশান্তি করছস। তুই একটা *******” । ইত্যাদি ইত্যাদি। :-/

সেই হারামী বন্ধুটার নাম সিয়াম সাঞ্জারী (Siam Sunjary)। তখন থাকত রায়ের বাজার। পুরা ক্যাম্পাসের সবচাইতে মোটা আর লম্বা ছেলেটা সে। লম্বায় ১ম না হলেও অন্তত মোটার দিক দিয়ে সে’ই প্রথম। আমি ওর নাম দিছিলাম ​ডালিম কুমার। নামটা খুব খুব হীট হয়েছিল পুরা ক্যাম্পাস তথা হোস্টেলে। শেষ মেস আমিই বাধ্য হয়ে সবাইকে রিকোয়েষ্ট করেছিলাম, যাতে ওকে কেউ এই ডালিম কুমার নামে আর না ডাকে।
কারণ, এই নামে কেউ ওকে ডাকলে হারামী ডালিম কুমার দোষী ব্যাক্তিকে কিছু না বলে, সোজা আমার উপর এসে চড়াও হতো।  আর আমি বেচারা শুকনা পাতলা মানুষ। 🙁 সিয়াম আমাকে ওর দু’হাত আর মোটা শরীর দিয়ে চাপা দিয়ে ধরত। দম বন্ধ হয়ে মারা যাবার উপক্রম পুরা। দম বন্ধ হয়ে যেত সত্যি তবে তা চাপের ঠেলায় না, ওর ঘামের গন্ধে। মটকু টা প্রচুর ঘামত আর গোসল করতে চাইত না। তাই ওর ঘাম থেকে প্রচন্ড উৎকট গন্ধ বের হতো। যেটা যে কোন পারমাণবিক বোমার থেকেও ভীষণ মারাত্বক।

তবে মনের দিক থেকে সে ছিল একেবারে বাচ্চা। একেবারেই ইনোসেন্ট। কোন কিছু বুঝায় বললে সে শুনতো। যে ওরে পাম দিত, তার প্রতি দেওয়ানা মাস্তানা হয়ে যেত। সিয়াম তার আম্মু কে খুব ভালবাসত। তার আম্মু যেদিন আসত, সেদিন আমরা হোস্টেলম্যাটরা অপেক্ষায় থাকতাম, কখন মা-ছেলের কান্নাকাটির পালা শুরু হবে 😛 আতিফ আসলামের একটা গান ছিল, “দূরী, সাহি যায়ে না…”। সে আতিফের এই গানটা তার আম্মু কে ডেডিকেট করে শুনতো, গাইত।
ওর ক্যারেক্টার টা আমাদের বর্তমান রাফি আয়াতুল্লাহ জাহেদী এর সাথে কিঞ্চিৎ তূলনা করা যেতে পারে। ​সিয়ামের সাথে কথা হয় না আজ অনেক অনেক বছর। আর ২০০৭ এর পরে তো আর দেখাই হয় নি। আজ হঠাত তার কথা মনে পরে গেল। সত্যি, ওল্ড ইজ গোল্ড। সৃতি গুলো মহামূল্যবান।

হোস্টেল জীবন

লাবিব ইত্তিহাদুল,
৪ এপ্রিল, ২০১৪

৫৫৪৭ টি সর্বমোট হিট ৩ টি আজকের হিট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *