Labib ittihadul and Father Alfaz Uddin

আমার বাবা’র জীবনের বাস্তবায়িত স্বপ্ন – একটি স্বাধীন চাকরি এবং স্বাধীনতা

আব্বু ভাত খাচ্ছিলেন মাটির মেঝেতে বেছানো পাটির উপর বসে। ভাত বেড়ে দিচ্ছিলেন আমার দাদু (বাবার মা)। আমার বাবা তখন মাত্র মাস্টার্স শেষ করেছেন। উল্লেখ্য আব্বু তার গ্রাম সহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মধ্যে ১ম অনার্স মাস্টার্স পাশ করা ব্যাক্তি।

সঙ্গত কারণেই আব্বুর কাছে পাশের স্কুল গুলো থেকে শিক্ষকতা শুরু করার প্রস্তাব আসচ্ছিল। যেগুলো নিয়ে বাড়িতে আব্বুর সাথে টুকটাক কথাবার্তা ও চলচ্ছিল। কিন্তু আব্বু ছিলেন টোটো কোম্পানির ম্যানেজার। কোন প্রফেশনে ঢুকার থেকে ঘুরাফেরা আর আড্ডাবাজিতে তার বেশি মনযোগ ছিল। তো  খাওয়ার সময় দাদু আব্বুকে একা পেয়ে তাগাদা দিয়ে বল্লেন, “আলফাজ কিছু একটা কর”। স্কুল গুলোতে ক্লাস নিলেও খারাপ হয় না, আর শিক্ষকতা শুরু করলে ভালই হয় ইত্যাদি ইত্যাদি।
আব্বু দাদুর বিরোধীতা করলেন, আব্বু বল্লেন, “না গো মা, আমি একটা স্বাধীন চাকরি করব। মাস্টারি আমারে দিয়া হবে না”। আব্বুর চিন্তাভাবনা ছিল এমন যে, শিক্ষকতা মানুষ এভাবেই শুরু করে। একবার শুরু করে দিলে ব্যাপারটা নেশার মত হয়ে যায়, এর পর ইচ্ছা করলেই আর ছেড়ে দেয়া যায় না। তো, আব্বু সেই দিকে আর গেলেন ই না।

এই ঘটনার প্রায় ১৫ বছর পরের ঘটনা –

আমার ছোট চাচার বিয়ে। আব্বু ততদিনে ‘ল’ পাশ করে, গাজীপুর বার’এর প্রায় সিনিয়র আইনিজীবী। তখন সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছিল একদিন শুধুমাত্র শুক্রবার, আর বিয়ে ছিল শনিবার।  শনিবার বিয়ে থাকায় আব্বুর যাওয়ার প্ল্যান থাকলেও অনেক ব্যাস্ত ছিলেন।  বিয়ে বাড়িতে অতিথীরা সবাই আব্বুকে খুজলো কিন্তু কেউ খুঁজে পেল না। এখনকার মত তখন মোবাইলফোন ও ছিল না। আব্বু যতক্ষনে গ্রামের বাড়িতে যেয়ে পৌছুলেন, ততক্ষণে বিয়ে শেষ, মেহমান রা সবাই বিদায় নিয়ে গেছেন, বাড়ির সব ঝামেলাও শেষ, এমনকি সবাই শুয়ে পরেছে।
আব্বু বাড়ির উঠানে যেয়ে মা বলে ডাক দিলেন। ঘর থেকে দাদু হারিক্যান নিয়ে বের হলেন দ্রুত। আব্বুর হাতে এলাকার বাজার থেকে কেনা বড় একটা মাছ। দাদু কয়েক মুহুর্ত দরজায় দাড়িয়ে থেকে বল্লেন, ‘কিরে আলফাজ? এই নাকি তোর স্বাধীন চাকরি?’ সেদিন আব্বু কোন উত্তর দেন নি।

হ্যা, একথা সত্যি যে, আজকে আব্বুর প্রতিটা মুহুর্ত পাই পাই ব্যাস্ততা। কাজ আর কাজ। কিন্তু, সাথে একথাও সত্য, আব্বু আজ স্বাধীন চাকরি করেন, আব্বুর কোন বস নাই। আব্বুকে কারো কাছে জবাবদিহিতা করতে হয় না। স্বাধীন চাকরি খেয়ে দেয়ার মত কেউ নাই। ছোটবেলা আব্বুকে যখন বলতাম (এখনো যখন মাঝে মাঝে বলি), আজকে অফিসে যাবা না। এর উত্তর দেয়ার জন্য আব্বুর কাউকে ফোন করতে হয় না, কাউকে রিকোয়েষ্ট করতে হয় না। কোথাও গেলে, ইচ্ছামত ঘুমালে, কোন কাজ না করলে, ভুলে গেলে দু’কথা শোনাবার মত কেউ নাই। এর নাম স্বাধীন চাকরি।

আজকে Free সময়ের অভাব হয়তো অনেক বেশি, কিন্তু হলফ করে বলতেছিল Freedom এর কোন ঘাটতি নাই।

আর আমার জীবনের চাকরি অভিজ্ঞতার কথা তো আগেই বলেছি।

৭১১৮ টি সর্বমোট হিট ৩ টি আজকের হিট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *