সুদ/হারাম খোররাই জাতীর সূর্য সন্তান

সম্মানিত সুদখোর বন্ধুরা, এই লেখাটা তোমাদের জন্য উৎসর্গ করলাম

অনেক আগে গ্রামের কৃষকেরা ফসলের পোকা দূর করত কিভাবে কারো মনে আছে? সময়টা কীটনাশক ব্যাবহার শুরুর আগের।

বাবার কাছে যতটুকু শুনেছি, ফসলে পোকা হলে গ্রামের কৃষকেরা ছোট ছোট কাগজে কয়েকজন সুদখোরের নাম লিখে কাগজগুলো ফসলের ক্ষেতে ছিটিয়ে দিতেন। সুদখোরের নাম দেখে ফসলের কীট গুলোও ফসল ছেড়ে চলে যেত।

হা হা, মজা লন? পোকা কি নাম পড়তে পারে? আর সুদখোরের নামে পোকা চলে যায়, এই বৈজ্ঞানিক ব্যাক্ষা কি?

সত্যি, এর কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাক্ষা নাই। হয়তবা পোকা থেকেই যেত। কিন্তু এতটুকু প্রমাণিত যে, তৎকালিক সময়ে সুদখোর দের অত্যান্ত ঘৃণাসূচক ভাবে দেখা হতো। আর সুদখোরের নাম সংগ্রহ করতেও অনেক বেগ পেতে হত। অনেকগুলো গ্রামে খোজ নিলে মাত্র কয়েকজন সুদখোর পাওয়া যেত। গ্রামের লোকেরা গর্ব করে বলত, আমাদের গ্রামে সুদখোর নাই 🙂

এবার ২০১৩ ডিজিটাল যুগে ফিরে আসুন। আজ সুদখোরের নাম খুঁজতে কষ্ট করা লাগে না। কারণ আমার বাবা, মা, পাশের বাসার আঙ্কেল  আন্টি সবাই সুদ খায়। সবাই সুদি ব্যাংক এ লেনদেন করে।

এমনকি সুদি থিওরি দিলে নোবেলও পাওয়া যায়। অদূর অতীতের অতি ঘৃণীত ব্যাক্তিরা আজ মহা সম্মানিত। তারা জাতীর সূর্য সন্তান। আমি চাই আমার সন্তানও জাতীর সূর্য সন্তান হোক। তাই তাকে বিবিএ পড়াই। আমার বন্ধু আছে ব্যাংকের বড় পদে। সামান্য পয়সা খাওয়াইলে ব্যাংকে ঢুকায়া দেয়া যাবে। নাইলে বেসরকারি ব্যাংক তো আছেই।

অথচ আল্লাহতালা, ব্যাবসাকে হালাল আর সুদকে হারাম করেছেন।
আর কিছু লোক তো বলেই, সুদ নাকি ব্যাবসার মত। যেখানে সুদের চুক্তি লেখক, সাক্ষী কে পর্যন্ত অভিশাপ দেয়া হয়েছে, সেখানে দাতা গ্রহিতা কোন পর্যায়ের?

২৪৬৩ টি সর্বমোট হিট ১১ টি আজকের হিট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *