We all at Mirpur Stadium

খেলা শুধু দেখেই না, দেখিয়েও এলাম! মাতিয়ে এলাম গ্যালারী!!

Labib Ittihadul

গ্যালারীতে আমি

বহু প্রতীক্ষার পর চলে এলো ১লা এপ্রিল, ২০১৪। সেই ২০১৩ সালেই ঠিক করে রেখেছিলাম, এই দিন খেলা দেখতে যাব। টিকিট আগেই কিনে রেখেছিল আসিফুর ও ফয়সাল। একই দিনে দুটি ম্যাচ। বাংলাদেশ বনাম অস্ট্রেলিয়া এবং পাকিস্তান বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই ২০১৩ এর ডিসেম্বর থেকেই চলচ্ছিল পরীকল্পনা, কি কি করা যায়?
যাই হোক, আমার অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল, একটা ব্যানার বানাব। ব্যানার টা হবে সম্পূর্ণ টাকার মত। সব লেখা থাকবে হুবহু। শুধু টাকার অংকের জাগায় রান থাকবে। যাই হোক, প্রস্তাব দিলাম এমন একটি ব্যানার বানানোর। সবাই সাদরে সম্মতি দিল। ১০০০ টাকার নোটের মডেল অনুযায়ী হবে আমাদের ৬ রানের নোট। নোটের উপর বড় করে লেখা থাকবে, “চাহিবা মাত্র বাংলাদেশকে ৬ রান দিতে বাধ্য থাকিবে“।

Boys of Gazipur

চাহিবা মাত্র বাংলাদেশকে ৬ রান দিতে বাধ্য থাকিবে

গাজীপুরের ছেলে আমরা। বাড়ির কাছেই টাকশাল (টাকা বানানোর ফ্যাক্টরী)। সাথে গাজীপুর থেকেই শুরু হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ। সেই সুবাদে টাকায় শহীদ মিনারের স্থলে থাকবে জাগ্রত চৌরঙ্গীর ছবি। সাথে টাইগারদের জন্য শুভ কামনা এমং একটি বাঘের ছবি। ১০০০ টাকার নোট স্কেন করে দেয়ার কথা ছিল রাফির। কিন্তু গাধাটা দেই দেই করে আর দিল না। শেষে ইস্মাইল চাচ্চু প্রায় ৪ রাত খেটেখুটে বানাল স্বপ্নের ব্যানার।

1000Tk Gazipur Version

ব্যানারের সর্বশেষ অবস্থা

ড্রেসঃ
আসিফুরের ইচ্ছা আমরা যেন লুঙ্গী আর গামছা পরে যাই মাঠে। তাতেও না করল না কেউ। কম খরচে লুঙ্গীর আইডিয়া দিলাম আমি। গজ কাপর কিনে প্যাচ দিয়ে দিলেই তো হয়ে যায়। যাই হোক, প্ল্যান মোতাবেক কাজ চলচ্ছে। ৮ জনের টিকিট আছে। কিন্তু কেন্ডিডেট ৮ জনেরও অনেক বেশি। কাকে রেখে কাকে নেয়া, এই নিয়ে বিরাট হৈ চৈ। শেষে বহুত বাছাই এর পরে পরীকল্পনা করার সময় যারা যারা তাৎক্ষণিক ছিল, তাদের ক্রমানুসারে ৮ জন সিলেক্ট হলো।
৩০ তারিখ রাতে এক প্রকার জোর করেই সবাইকে নিয়ে গেলাম বাজারে। বাকিদের ইচ্ছা ছিল ৩১ তারিখে বাজারে যাওয়ার। কিন্তু, আগের রাতে বাই চান্স কিছু জিনিস না পাওয়া গেলে বিড়াট গড়বর লাগবে। এই বুঝিয়ে আগেই নিয়ে গেলাম।থান কাপড়ের দোকানে গিলে আমি বললাম লুঙ্গী হবে লাল। আজিব! লাল লুঙ্গী কেমন দেখাবে? আমার কথা হলো, জিনিসটা আজিব ই দেখাতে হবে। সাধারণ দেখা গেলে আর পড়ার মানে কি? সবার আংশিক সম্মতিতে টকটকা লাল রঙ্গের থান কাপড় কেনা হলো।
সেদিন গেঞ্জি আর গামছা কেনা যায়নি। এর পরের দিন আসিফুরের (ডিউকের) ইচ্ছা অনুযায়ী কেনা হল সবুজ গেঞ্জি। সমস্যা বাধাল আমাদের রাফি। সালায় ইয়া মোটা। অনেক খোজার পর তার জন্যও গেঞ্জী পাওয়া গেল XXXL মাপের সম্ভবত। প্ল্যান হল, ফয়সালের গাড়িতে করে ১২ টায় রওনা দেয়া হবে। সবাইকে বলা হবে ১১ টায় আসতে। যাতে ১০ মিনিট করে করে হলেও ১২ টায় রওনা দেয়া যায়।

Labib, Duke, Ismail

ফয়সালের গাড়িতে আমি, ডীউক ও ইসমাইল চাচ্চু

যাত্রা শুরুঃ 
আমার সমস্যা হচ্ছে, পরের দিন কোন প্রোগ্রাম থাকলে আগের রাতে মার ঘুম তো হয় ই না, পুরা অস্থীর কাটে পুরা রাত। তাই প্ল্যান করলাম ঘুমানোর চেষ্টাও করব না। একেবারে পরের রাতে অর্থাৎ খেলা দেখে এসে ঘুমাব। যাই হোক, সারা রাত অনলাইনে কাটালাম।  কখন ঘুমালাম জানি না। দরজায় গুরুম গারুম শব্দে ঘুম ভাঙলো। ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি ১টা বাজে!! এর পর কি হলো আর বলার অপেক্ষা রাখে না। চাচ্চুর প্রচন্ড পেট খারাপ থাকার পরেও যেতে হলো আমাদের সাথে। কাঁদ কাঁদ চোখে বিদায় জানাল আমাদের জাম্প (আরিফ)।

প্রথম ধাক্কাঃ 
বিভিন্ন কারণে ৩০ মিনিট দেরীতে পৌছালাম স্টেডিয়াম এরিয়াতে। সবাই আসার পর দ্রুত ব্যানার খুলে রওয়ানা দিলাম ৫ নাম্বার গেটের দিকে। পাশের সবাই খুব উৎসাহ নিয়ে আমাদের ব্যানার দেখছিল। সামনে দাঁড়ানো মানুষ গুলো জায়গা ছেড়ে দিচ্ছিল আমাদের। ধাক্কাটা খেলাম প্রথম গেট দিয়ে প্রবেশের পর। এই ব্যানার নিয়ে যাওয়া যাবে না, কারণ এতে গাজী টিভি আর মাছ রাঙার লগো আছে। বহু রিকোয়েষ্ট এর পর লগোর যায়গা কেটে ফেলার স্বার্থে নিয়ে যেতে সম্মতি হলো। ধারালো কিছুর অভাবে দাঁত দিয়ে টেনে টেনে ছিড়তে হলো পিভিসি প্লাষ্টিক!!

দ্বিতীয় ধাক্কাঃ
সেটা ভেতরের গেটে। খা***র পোলায় কয়, ব্যানার নিয়া নাকি যাওয়াই যাইব না! এগুলা নিষেধ। বিরাট ঝগরা। এক পর্যায়ে কয় আমাদের নাকি ঢুকতেই দিবে না। অবশেষে বহু হাউ কাউ এর পর তিনি তার “ভচ” (বস) কে ডাকলেন ওয়্যারলেস এ। ভচ ভাইয়া এসে আমাদের ঢুকতে দিলেন 😀
ছেড়া ব্যানার নিয়ে, মাথায় গামছা, গায়ে সবুজ টি শার্ট, আর থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট এর উপর লাল টকটকা কাপড় লুঙ্গীর মত প্যাচিয়ে গ্যালারীতে প্রবেশ করল আমাদের দল।

সীট নাম্বার খুজে, দাড়াতে দাড়েতেইনিজেদের আবিষ্কার করলাম বড় স্ক্রীনে। এর যা হবার তাই হলো। মাইজ্ঞা রাফাত এবং আধামরা ইমরান ছাড়া বাকি সবাই গ্যালারী মাতিয়ে রাখলাম পুরোটা সময়। আর টিভির সামনে ভাই ব্রাদার রা ফোন দিয়া দিয়া খুব প্যারা দিল।

Imran, Rafi, Duke, Labib, Shohag, Faisal, Ismail on Live TV

টিভিতে দেখাইছে , এটা বড় কোন কথা নয়। তবে মাঠে ১০+ বার ক্যামেরা আকর্ষন করানো কম কথা নয়

ভেতরের গেঞ্জামঃ
ভেতরের ভলান্টিয়ার রা নিজেদের এক একটা সরকারী দলের এমপি/মন্ত্রী মনে করেন। বলদ বললে ভুল হবে, এগুলা এক একটা মহা বলদ। সামনের এক গ্রুপ আন অফিসিয়াল জার্সি পড়ায়, তাদের বলে খালি গায়ে খেলা দেখতে। আজিব! পরে বিরাট গেঞ্জাম। অন্য গ্যালারীর বন্ধুরা আমাদের ফোন করে বার বার জানতে চাচ্ছিল, কি ঝামেলা এইখানে। পরে তাদের আগে আমরাই গেঞ্জী খুলে বিজয় ইল্লাস করেছিলাম। বার বার চেচাচ্ছিলাম, বিরাট মজা করলাম। (খুব সংক্ষেপে বলা হলো এই ঘটনা। এইসব চো*না দের কথা বলতে ইচ্ছা করে না)

কিছুক্ষন পর এক লোক আসল বাচ্চা কোলে। তিনি আমাদের টিভি তে দেখেছেন। তাই আমাদের সাথে দেখা করতে এলেন। উনার বাসা কাছেই। উনি কিভাবে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করেছেন আমার আইডিয়া নাই। কিন্তু নিজেদের সেলিব্রেটি মনে হচ্ছিল। একটু পর পর দূরে থেকে বিভিন্য মানুষ এসে আমাদের সাথে ছবি তোলার অনুরোধ জানাতে লাগলেন। আর কেউ কেউ দূর থেকেই আমাদের ছবি তুলচ্ছিলেন। কারণ সার্কার আমরা ভালই দেখাচ্ছিলাম।

Labib with a Baby

সেই আঙ্কেল ও পিচ্চি টা

বিশেষ কষ্টঃ সবার প্রিয়জন তথা গার্লফ্রেন্ড বা গার্ল-ফ্রেন্ড রা (ফয়সালের ক্ষেত্রে বউ) টিভিতে খেলা দেখে আপনজনদের দেখতে পাওয়ার আনন্দ বাটছিলেন ফোন দিয়ে দিয়ে। ব্যাপারটা আমার সাথে ঘটেনি। শান্তনা একটাই, আমি এক্সেপশনাল :'(

যদিও বাংলাদেশ হেড়েছে। কিন্তু হাড়ার আগেই আমরা যথেষ্ট মজা করে নিয়েছি। আমাদের আনন্দঘন মুহূর্তের কিছু ছবিঃ

Rafi, Duke, Labib, Shohag, Faisal & Ismail at Stadium

আমাদের ৮ জনের টীম, মৃত দুইটা ঐ পাশে

Labib, Shohag, Faisal & Ismail Prova

লাবিব, সোহাগ, ফয়সাল, ইসমাইল চাচ্চু

Labib with Red & Green at Stadium

আমি, লুঙ্গী উড়াইতাছি

Shohag, Labib, Duke

পেছনে ডিউক, মাঝে আমি, সামনে সোহাগ। সবাই লুঙ্গী উড়াই 😀

 

লাবিব ইত্তিহাদুল,
২ এপ্রিল, ২০১৪
ভোর ৫টা ৪৫ এ লেখা শেষ করলাম।
বাসায় এসে এখনো ঘুমাই নাই। ভুল ত্রুটি পরে এডিট করব।

 

৬২৩৯ টি সর্বমোট হিট ৪ টি আজকের হিট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *