Featured Video Play Icon

টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ । লাকমা ছড়া । নীলাদ্রি লেক । যাদুকাটা নদী । শিমুল বাগান

সবাইকে শুভেচ্ছা এবং স্বাগত জানাচ্ছি আমি লাবিব ইত্তিহাদুল আমার ডায়েরির নতুন অধ্যায়ে। আজকের অধ্যায় সুনামগঞ্জ এর টাঙ্গুয়ার হাওর। এর আগের বারের নরসিংদী ঘোড়াশাল ট্যুরের দূর্ঘটনার কথা আশাকরি কেউ ভুলেন যান নি। আমরা বেশ ভালই আছি আপনাদের দোয়ায়।

চলুন যাত্রা শুরু করি টাঙ্গুয়ার হাওড় এর উদ্দেশ্যে। এর সাথে কিছু তথ্য জানিয়ে দেই। এই ট্যুর টি ছিল যাওয়া আসা মিলিয়ে ৩ রাত ২ দিনের।  ট্রিপের জনপ্রতি খরচ ছিল ৩৫০০ টাকা।  আমরা যাত্রা শুরু করেছিলাম ঢাকা কমলাপুর শ্যামলি পরিবহন এর কাউন্টার থেকে রাত ১১টার বাসে সুনামগঞ্জ জেলার উদ্দেশ্যে। বাস ভাড়া জনপ্রতি ৫৭০ টাকা। ভোর ৫টা নাগাদ সিলেট পার হয়ে সকাল ৭ টার আগে আমরা পৌছে যাই সুনামগঞ্জ।

সুনামইঞ্জ থেকে সিএনজি রিজার্ভ নিয়ে চলে যাই তাহিরপুর, সেখানে পৌছানোর পর ই সকালের নাস্তা। আর হাওরের উদ্দেশ্যে ট্রলার ছাড়ে এই তাহিরপুর থেকেই।

আমাদের মূল টার্গেট ছিল টাঙ্গোয়ার হাওড়ে ঘুরাঘুরি, সুযোগ হলে দাপাদাপি, শহীদ সিরাজ লেক বা নিলাদ্রী লেক ঘুরে দেখা আর যাদুকাটা নদীর পাশে শিমুল বাগান ঘুরে দেখা। আর হাওরে ঘুরতে যাওয়ার সময় লাইফ জ্যাকেট মাষ্ট সাথে রাখা লাগবে।
সত্যি বলতে বাসে যাওয়ার সময় আমরা রাস্তার দুপাশে যে সৌন্দর্য দেখেছি, আর সিএনজিতে করে তাহিরপুর যাওয়ার সময় প্রকৃতির যে রুপ দেখেছি, তাতেই মনে হয়েছে ট্যুর এর পয়সা উসুল!! আর বাকি যা যা দেখেছি, সব সব হচ্ছে বোনাস!!!
সত্যি, প্রকৃতি এত সুন্দর রুপে সাজতে পারে। সৃষ্টিকর্তার প্রতি নিজের অজান্তেই মাথাটা নত হয়ে আসে তার সৃষ্টি দেখে।

ইঞ্জিনের ট্রলারে গান আড্ডা গল্পে গল্পে ভর দুপুর বেলা আমরা পৌছে যাই ওয়াচ টাওয়ারে। যেটা অনেকটা রাতারগুল জলাবন এর ফীল আপনাকে।
ওয়াচ টাওয়ারে প্রায় সব ট্রলার ও নৌকাই একবার করে ঘুরে যায়। আমরা ওয়াচ টাওয়ারে কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে আবার যাত্রা শুরু করি আমাদের প্রথম দিনের শেষ গন্তব্য টেকেরঘাট এর উদ্দেশ্যে। এর মাঝে এক যাগায় নৌকা ভিড়িয়ে শুরু হয় আমাদের আনন্দ উজ্জাপন!

প্রত্যেকে লাইফ জ্যাকেট নিয়ে যাওয়ায় সাঁতার না জানাও কোন সমস্যা ছিল না। প্রায় ৫ ঘন্টার বেশি সময় পানিতে ছিলাম আমরা। পানিতে ঝাপাঝাপি, ডুবাডুবি আর হৈ হুল্লোর করে দূর্দান্ত সময় কেটেছে আমাদের। সেদিনের দুপুরের খাবার খাওয়া হয় ট্রলারেই। রান্না করেছিল ট্রলারের মাঝি ও তার সহযোগী।

ডুবাডুবি পর দুপুরের খাবার খেয়ে আমরা সন্ধ্যার আগে দিয়ে পৌছে যাই প্রথম দিনের শেষ গন্তব্য টেকেরঘাট!

এবার বলে দেই রাত্রী যাপনের কথা,
আমরা রাত্রী যাবন করেছিলাম ট্রলারে। কারণ টেকেরঘাটে থাকার কোন হোটেল নেই এমনকি খাবার হোটেল ও নেই তেমন। ট্যুরিস্টবাহী সকল ট্রলার নিরাপত্তার তাগীদে সাধারণত এখানেই রাত কাটিয়ে দেয়। বাইরে রাতভর বৃষ্টি থাকায় মাঝ রাতের আড্ডা জমানো বাদ দিয়ে ঘুমের দিকেই মনযোগ দিতে হয়েছিল সবাইকে।

সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক বাসায় রিকোয়েস্ট করে ফ্রেশ হয়ে ছুটে যাই শহীদ সিরাজ লেক বা নিলাদ্রী লেক এর উদ্দেশ্যে। বিভিন্ন ট্রাভেল গ্রুপের ছবি দেখে নিলাদ্রী নিয়ে যতটা কল্পনা ছিল, নিলাদ্রী আসলে এর থেকেও কয়েক গুন বেশি সুন্দরী এবং রুপময়। যে কারো চোখ ধাঁধাতে সক্ষম এই নিলাদ্রী লেক।

নিলাদ্রী লেক ঘুরে এসে হাতে কিছু সময় থাকায় আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম লাকমাছড়া যাওয়ার।

লাকমাছড়া হচ্ছে সিলেটের বিসনাকান্দির মত একটা যায়গা। ভারতের কোন একটা ঝর্ণার ঝিরি শেষ হয়েছে এখানে এসে। আর ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত হওয়ায় এই ঝর্ণা পর্যন্ত যাওয়ার অনুমতি নেই। বাংলাদেশিরা এই হাটু পানিতে দাপাদাপি করেই নিজেদের তৃপ্ত করে।
এরপর গেলাম একটি আনকমন একটা স্থান, টেকেরঘাট ঝিড়ি তে। সেখালেও দেখা মিলল ঝিড়িপথ এর। এটাও ভারত থেকে বাংলাদেশে গড়ানো কোন এক ঝর্ণার শেষ প্রান্ত। সীমানা পিলাড় টপকানোর অনুমতি নাই। বরফগলা হিম শীতল পানি। ছবি তোমার জন্য সুন্দর স্থান।
মোটর সাইকেলে লাকমাছড়া সহ এই দুই যায়গা ঘুরতে যাওয়া আসা সহ দুই জনের খরচ হয় ১০০ টাকা। বাইকে ড্রাইভার বাদের ২ জন বসা যায়।

এখান থেকে ঘুরে আসে আমরা ছুটে চললাম যাদুকাটা নদীর তীরে অবস্থিত শিমুল বাগান এর উদ্দেশ্যে। ভালোবাসার মৌসুমে এখানে লাল শিমুল ফুল ছড়িইয়ে ছিটিয়ে থাকে গাছে আর মাটিতে। কিন্তু সিজন না থাকায় আমরা দেখেছি সবুঝ পরিষ্কার ভালোবাসা। চোখ ধাধানো এত সবুজ আর কোথায় দেখেছি বলে এই মুহূর্তে মনে পরচ্ছে না।
যদিও বিদায় নিয়েছিলাম শিমুল বাগান দেখার পর পর ই। কিন্তু যাদুকাটা নদীর সচ্চ সুন্দর পানি দেখে ডুবাডুবির জন্য মন টানচ্ছিল ব্যাপক। তো কজন মিলে ঝাপিয়ে পরলাম যাদুকাটা নদীতে।

তো এই ছিল আমাদের টাঙ্গোয়ার হাওড় ট্রিপ। এতক্ষন ধৈর্য ধরে আমার লেখাটি পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। এর পরের বার লিখব সেন্টমার্টিন ট্যুর এর রিসোর্ট, যাওয়া আসা ও খরচ নিয়ে  নতুন কোন ভ্রমণ অভিজ্ঞতার কথা। সেই পর্যন্ত সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন এবং আমার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ্‌ হাফেজ।

১৯৮৪ টি সর্বমোট হিট ৩১ টি আজকের হিট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *