Featured Video Play Icon

ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর ভ্রমণ । কালবৈশাখী । কিভাবে যাব? কি দেখব? খরচ কত?

সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করতে যাচ্ছি আমার নতুন ব্লগ। আর আজকে আপনাদের নিয়ে যাব চাঁদপুর ঘুরতে। আর শুরুতেই স্পয়লার!

যারা ফেসবুক/ইন্সটা তে কাঙ্কটেড আছেন আমার সাথে, তারা জানেন, চাঁদপুর ট্যুরের সময় আমরা বড় ষ্টেশন থাকাকালীন সময়ে পরে গিয়েছিলাম কালবৈশাখির কবলে। ৩ দিকে নদী, আর মাঝে আমরা, প্রচন্ড বাতাসে আর  ঝড়ে বালু কনাগুলো বুলেটের মত করে লাগচ্ছিল গায়ে! সে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা।

তবে ধুলা ঝর থামার পর ঝড় টা দেখতে ভালই লাগচ্ছিল। ৩ নদীর মোহনাতে ঝড় ক্যামন প্রচন্ড আর সুন্দর হতে পারে, সরাসরি না দেখলে জানতেও পারতাম না।

তো এই ছিল চাঁদপুরে আমাদের ঝড়ের অভিজ্ঞতা। এবার বলব আমাদের চাঁদপুর ট্যুরের আসল গল্প। আমাদের এবারের চাঁদপুর জার্ণি ছিল শুধুi ইলিশ খাওয়ার উদ্দেশ্যে। কারণ চাঁদপুর এর আরেক নাম ইলিশের বাড়ি বা ইলিশের রাজধানী। সুস্বাদু ইলিশের জন্য ব্যাপক সুনাম রয়েছে চাঁদপুর এর।

সকাল ১০ টায়। লঞ্চে জনপ্রতি টেকিট দাম ছিল মাত্র ১০০ টাকা।  পাশাপাশি বিটিজির পক্ষ থেকে নেয়া হয় একটি সিঙ্গেল ক্যাবিন। যেখানে ব্যাগপত্র রেখে ক্যাবিনের বারান্দায় বসে যাই সবাই। তার মাঝে লঞ্চ ছাড়ার সাথে সাথে শুরু হয় আমাদের আড্ডা, গল্প আর গানের আসর।

যারা কখনো লঞ্চে যাতায়াত করেন নি, তাদের জন্য টিকেট সিস্টেম টা বলে দেই। লঞ্চের টিকিট বাসের মত আগে থেকে কাটা লাগে না। লঞ্চে ওঠার সময় গেটে টিকিট কাটা যায়, অথবা লঞ্চ থেকে নামার সময় ও টিকিট কাটা যায়। আর ক্যাবিন নিতে চাইলে প্রতি তালায় ক্যাবিন বয় থাকে, অথবা টিকিট যারা বিক্রি করে, তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করলেই ক্যাবিন ভাড়া জানতে পাওয়া যায়। চাঁদপুর এর সিঙ্গেল ক্যাবিন এর ভাড়া ছিল ৬০০ টাকা মাত্র

দুপুর নাগাদ আমরা পোছে যাই, আমাদের গন্তব্য ইলিশের রাজধানী চাঁদপুর এর লঞ্চ টার্মিনাল এ। সেখানে আগে থেকেই অনেক মানুষ দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু কেউ আমাদের জন্য দাঁড়ায় নি। সো স্যাড।

চাঁদপুর লঞ্চ ঘাটে পৌছেই আমরা ব্যাটারী চালিত অটো নিলাম, ৬ জন বসা যায় এক অটোতে। গন্তব্য বড় ষ্টেশন, রিজার্ভ ভাড়া ১০০ টা। এছাড়া লোকাল ভাড়া জনপ্রতি ১৫ টাকা। চাঁদপুর ঘুরতে যাওয়া মানেই হচ্ছেবড় ষ্টেশন এলাকাটা ঘুরে দেখা। তবে ইলিশ খাওয়া আর বড় ষ্টেশন যাওয়ার আগে আমরা গেলাম মাছের আড়তে, ইলিশ মাছ দেখার আশায়। গিয়ে জানতে পারলাম ইলিশ মাছ ধরা বর্তমানে নিষিদ্ধ, তাই তারা খুব একটা ইলিশ ধরে না তবে প্রচুর অন্য বড় মাছের দেখা মিলল।

মাছের আড়তের পাশেই ডাকাতিয়া নদী। ঠিক ভাবে বললে ডাকাতিয়া নদীর পাশেই আড়ত। নদীতে অনেক নৌকা। মালামাল আনা নেয়া সহ চাঁদপুর এর মানুষের দৈনন্দীন জীবনের সাথে অতোপ্রোত ভাবে মিশে আছে এই ডাকাতিয়া নদী। ডাকাতিয়া নদীর আড়ত সংলগ্ন ঘাটে কিছুক্ষন সময় কাটিয়ে ক্ষুধার ডাকে সাড়া দিতে আমরা আবার চলে গেলাম বড় ষ্টেশন। এবারের উদ্দেশ্য পেট পূজা।

চাঁদপুরে ও মাওয়া ঘাটের মতই সিস্টেম। নিজের পছন্দ মত ইলিশের পিছ পছন্দ করা যায়, সেই পিছ টাই ভাজি করে এনে দেয়া হয়। খাওয়া দাওয়ার পাশাপাশি চলচ্ছিল আড্ডা, গল্প আর দুষ্টামি। আমি যে সবার মাথার উপরে ক্যামেরা লাগিয়ে দিয়েছিলাম, সেটা আসলে তেমন কেউ খেয়াল ই করেনি। ব্যাপার টা মজার ছিল।

খাওয়া দাওয়া শেষে কিছুক্ষন রেস্ট নিয়েই আমরা চলে গেলাম সংলগ্ন বড় ষ্টেশন। তখন দুপুর গড়িয়ে বিকাল। ওখানে যাওয়ার পরেই আসলে বুঝতে পারলাম, কেন সবাই চাঁদপুর বলতেই বড়স্টেশন এর কথা বলে। এই বড় ষ্টেশন এলাকায় পদ্মা-মেঘনা-ডাকাতিয়া ৩ টি নদীর মিলন বা ত্রি-মোহনা। রুপালি ইলিশের উতকৃষ্টতম প্রজনন কেন্দ্র। আর মানুষের সমাগমের ফলে যায়গাটি পরিণত হয়েছে একটি পার্ক বা মেলায়। এখানে সূর্যাস্তের দৃশ্য দেখার জন্য প্রতিদিন শত শত লোকের সমাগম ঘটে। সবাই যার যার মত করে সময় কাটায়, আড্ডা দেয়, গল্প করে।

এই ত্রি-মোহনা সংলগ্ন বড় ষ্টেশন ৩ দিক থেকেই সুরক্ষা বাধদিয়ে ঘেরা, ঊলত এটি চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের একটি অংশ।

৩ নদীর মোহনা বাস্তপবে কতটা সুন্দর, কতটা জোস সেখানে না গেলে বুঝিয়ে বলা সম্ভব না। আর এত সুন্দর স্নিগ্ধ একটা বাতাস! খুব ইচ্ছা হচ্ছিল নদীতে ঝাপ দিয়ে কিছুক্ষন সাঁতার কাটি, কিন্তু সময় স্বল্পতার কারণে সেটা সম্ভব হয় নি।

তো এই ছিল আমাদের ১ দিনের ঝটিকা চাঁদপুর  ভ্রমণ। একেবারেই পরিকল্পনা না করে হুট করে যাত্রা করা। লেখাটি ভাল লাগলে কমেন্ট করে জানান। আপনাদের কমেন্ট গুলোই আমাকে নতুন ব্লগ লিখতে প্রেরণা যোগায়। আর ট্যুর এর ছবি গুলো দেখতে কানেক্টেড হতে পারেন ইন্সটাগ্রাম বা ফেসবুকে।  আজ এই পর্যন্তই, আবার আসব নতুন কোন প্লেস এর নতুন কোন ট্যুর এর গল্প নিয়ে। সেই পর্যন্ত সবাই ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।

১৯৪৮ টি সর্বমোট হিট ২০ টি আজকের হিট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *