কথোপকথন – ২

রেল ষ্টেশনের পাশে চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম কয়েকজন বন্ধু মিলে। দোকানদার মামা কে জজ্ঞাসা করলাম,

আমিঃ মামা, দেশের যা অবস্থা, কি মনে হয়?
দোকানদারঃ কি কমু মামা, দোষ সব হাসিনার!
আমিঃ কি!দোষ হাসিনার মানে? হাসিনা কি অবরোধ দিছে নাকি? হাসিনা কি মানুষ পোড়ায়?
দোকানদারঃ কিন্তু হাসিনার কারণেই তো এইসব হইতাছে।
আমিঃ হাসিনা কি করল। হাসিনাই তো এত সুন্দর ভাবে দেশ চালাইতাছে। আর সংবিধান মতই তো দেশ চলতাছে।
দোকানদারঃ দেশ যেমনেই চালাক, হেয় ক্ষমতা ছাড়ে না, ক্ষমতা আটকায় রাখছে। ক্ষমতা ছাড়লেই তো সব ঝামেলা শেষ হয়া যায়। আর সংবিধান কি নিজেরা পাল্টাইলেই খালি হইব?
আমিঃ দেশ তো জামায়াত-শিবিরের কারণে অস্থীর, ওরা বোম মারে, মানুষ খুন করে। আরো কত শত আকাম কুকাম। যুদ্ধাপরাধী দল। ধর্ম নিয়া রাজনিতী করে। ধর্ম ব্যাবসায়ী দল।
দোকানদারঃ না মামা, জামায়াত-শিবির ঠিকই আছে। আসল ধর্ম ব্যাবসায়ী হাসিনা। নিজে হুজুর গরে মারে আর নামাজ পড়া দেখায়। আমি কইলাম শিবির করি না। (সাথে জোর দিয়ে যুক্ত করল)
আমিঃ এই অবরোধ ভাল লাগে? এই বোমা দিয়া মানূষ মারা? মানুষের এত দূরবস্থা?
দোকানদারঃ অবরোধ তো হইবই, কইছিল ১০ টাকার চাল খাওয়াইব। চালের দাম আবার বারছে। সব কিছুর দাম বাড়তি।
আমিঃ অবরোধ দিলে তো দাম বারবই। গাড়ি পোড়ায় দেয়। খাবার পোড়ায় দেয়।
দোকানদারঃ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়ুক, সব ঠিক হয়া যাইব। অশান্তি বন্ধ হয়া যাইব।
আমিঃ বিএনপি-জামায়াতের কারণেই আজকে দেশের এই অবস্থা।

যাই হোক, তাকে অনেক্ষন বুঝালাম বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় গেলে তারা আবার দূর্নিতি করবে। বোমা মেরে মানুষ মারবে। এত বড় বড় ফ্লাই ওভার আর হবে না। দেশের উন্নয়ন বিনষ্ট হয়ে যাবে। এখন আমরা অনেক শান্তিতে আছি। অনেক্ষন আলোচনার পরেও দোকানদারের কথা একটাই। সে কোন দল করে না কিন্তু হাসিনা ক্ষমতার লোভে সব করতাছে এবং তত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচন বাংলাদেশে সম্ভব না। সে নিজেও মানে না।

মাঠে না নামলেও, #তত্বাবধায়ক_সরকার যে দেশের অধিকাংশ মানুষের প্রাণের দাবী আজ তা স্পষ্ট উপলব্ধী করতে পারলাম।
লাবিব ইত্তিহাদুল

৫১২৫ টি সর্বমোট হিট ৪ টি আজকের হিট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *