Featured Video Play Icon

পাহাড়ের রাণী সাজেক ভ্যালি – কিভাবে যাব? খরচ কত?

অনেকেই মনে করেন সাজেক ভ্যালি খাগড়াছড়ি জেলায়। কিন্তু, সত্য হচ্ছে সাজেক ভ্যালি পরেছে রাঙামাটি জেলায় কিন্তু সহজতর যাতায়াত ব্যাবস্থার জন্য যেতে হয় খাগড়াছড়ি হয়ে। এছাড়া, বাংলাদেশের সবচাইতে বড় ইউনিয়ন হচ্ছে সাজেক

খাগরাছড়ি জেলার দিঘীনালা হয়ে যেতে হয় সাজেক ভ্যালি। দিঘীনালা থেকেই চাঁদের গাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়। ভাড়া ৪ হাজার থেকে খুব বেশি ডিমান্ড থাকলে ১০ হাজারের মধ্যে (রিজার্ভ)। ১১ জন আরাম করে বসা যায় চাঁদের গাড়ি নামক জীপ গাড়িতে। সেখান থেকে চাঁদের গাড়িতে সাজেক প্রায় ৩ ঘন্টার রোলার কোস্টার রাইড। রুইলুই পাড়া কেউ মূলত সাজেক ভ্যালি বলা হয়ে থাকে। রুইলুই পাড়ায় লুসাই, পাংখোয়া, ত্রিপুরা ইত্যাদি উপজাতির বসবাস। এলাকা টা সম্পূর্ণ সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত এবং প্রথম থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীই পাহাড়া দিয়ে এলাকাটি পর্যটন উপযোগী করে গড়ে তুলেছেন। এখানকার সবগুলো বাড়ি লাল আর সবুজ।

যাওয়ার রাস্তাঃ খাগড়াছড়ি > দিঘীনালা > চাঁদের গাড়িতে সাজেক

আমি বলব না, চাঁদের গাড়ির ছাদে বসতে! কারন, এটা বিপজ্জনক। তবে, এটা না করলে  জীবনটাই বৃথা। ৩ ঘন্টার রোলার কোস্টার রাইড! যত সামনে বসা যাবে, ততই বিপজ্জনক, ততই বেশি মজা! 

সাজেকে অনেক রিসোর্ট/হোটেল রয়েছে। বেশিরভাগ ই উপজাতিদের নিজস্ব। রূনময় রির্সোট (বিজিবি পরিচালিত), সাজেক রির্সোট (সেনাবাহিনী পরিচালিত) আলো রির্সোট (এনজিও), রক প্রশান্তি (সেনা পরিচালিত) এবং ক্লাব হাউস। এগুলোর ভাড়া সামান্য বেশি। জনপ্রতি ৩০০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত রুম পাওয়া যায়। কে কি ধরনের সুবিধা চায়, সেটার উপর ডিপেন্ড করে ভাড়া। আমরা ছিলাম রক প্রশান্তি। এটাও সেনা পরিচালিত।

সাজেকের প্রবেশ মুখেই সেনাবাহিনীর তৈরী স্টোন গার্ডেন আর ‘রক সাজেক রিসোর্ট’। এটাই সাজেকের সবচাইতে দামী রিসোর্ট। রুইলুই পাড়ায় অবস্থিত এই সেনা চেকপোষ্ট থেকেই আপনার সাজেক ভ্রমণ শুরু। ইচ্ছা করলে হেটে বা চাঁদের গাড়িতে চড়ে চলে যেতে পারেন কংলাক পাহাড় এর কংলাক পাড়ায়। কংলাক পাড়াকেই সাজেক ভ্যালী এর শেষ স্পট বলা যায়। এটা রুইলুই পাড়া থেকে ১ ঘন্টার পথ (পায়ে হেটে)। হাটে গেলে প্রকৃতি উপভোগ করা যাবে বেশি।

সাজেক ভ্যালী তে বলতে গেলে সারা বছর ই শীত কাল। আকাশ আর মেঘ খুব কাছ থেকে দেখা যায়। আপনার গায়েও ধাক্কা লাগতে পারে মেঘের। আপনি নিজেকে দেখবেন কুয়াশায় আচ্ছন্ন। ২০ গজ দূরে  দাঁড়ানো বন্ধু দেখবে আপনি মেঘের ভেতরে। সে এক দারুন আনন্দ।

সাজেক ভ্যালি তে নিরাপত্তাঃ

নিরাপত্তার জন্য সাজেক ভ্যালিকে অবশ্যই ১০০ তে ১০০ দিতে হবে। যাত্রার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপনাকে সেনাবাহিনীর গাড়ি পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে। ইচ্ছা করলে সারা রাত কাটিয়ে দিতে পারবেন হ্যালি প্যাডে বসে অথবা দোলনায়। কেউ ডিস্টার্ব তো দূরে থাক, অহেতুক প্রশ্নও করবে না। সার্বক্ষনিক গার্ড (সেনা) ঘুরাফেরা করবে আপনার নিকটে।

খরচঃ

সবচাইতে কম খরচ হবে যদি ১১ জন মিলে যান। চাঁদের গাড়ি ভাড়া সর্বোচ্চ ১০ হাজার ধরতে পারেন (যাওয়া + আসা)। এই গাড়িই আপনাদের জন্য পরের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। যাওয়ার সময় ২ বেলা সেনাবাহিনীর গাড়ির  সাথে যাওয়া যায়। সকাল ১০ টা আর দুপুর ৩টা। এই দুই টাইমে সবগুলো গাড়ি একই সাথে যাত্রা শুরু করে, যাতে কোন সমস্যা হলে একে অপরকে সাহায্য করতে পারে। ফেরার সময় ও সেইম। রিসোর্ট ভাড়া ৫০০ (জনপ্রতি)। আমাদের আরো অনেক কম লেগেছিল। আর খাওয়া দাওয়া ৮০০ (যাওয়ার দিন দুপুর + রাত, পরের দিন সকাল + দুপুর)।

মোটামুটি, সাজেক ভ্যালি এই। আরো কিছু জানার থাকলে অবশ্যই জানানোর চেষ্টা করব। অনেকে টিম মিল করতে না পেরে ফেসবুকের ইভেন্ট দেখে যায়, তবে তেমন পরিচিত না হলে যাওয়া উচিত না। ফেসবুক থেকে এক ইভেন্ট এ যেয়ে শিক্ষা হয়েছে আমার তাই আমি বলব, পর্যাপ্ত যাচাই বাছাই করে ট্যুর এ যেতে। বিশেষত নারী হলে।

৮১৯৩ টি সর্বমোট হিট ৪ টি আজকের হিট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *