woman abuse

ফেসবুক ইভেন্ট দেখে ট্যুর! – নারী টুরিস্ট সাবধান!

সুন্দরবন যাওয়ার ইচ্ছা ছিল অনেক আগে থেকেই। ফেসবুকে একটা ইভেন্ট শেয়ার করল এক ফ্রেন্ড। ফি ৪০০০ টাকা আর ডেসক্রিপশন পড়ে আর খুব সুন্দর/মজার কথা শুনে ইন্টারেষ্টেড দিলাম। দুজন এলাকার বন্ধুর সাথে কথা বলে, মোট ৪ জন বুকিং দিলাম আমারা, এর মধ্যে একজন মাত্র নারী টুরিস্ট। ওখানে খুব কুয়োট করে লেখা ছিল, “আপুদের জন্য বিশেষ সিকিউরিটি আছে“। ব্লা ব্লা ব্লা

মেইন হোষ্ট এর নামঃ জিম আহসান (Zim Ahsan)
ট্রাভেল গ্রুপঃ Tour Around Bangladesh (TAB)

২৮ তারিখ রাতে,
এ কে ট্রাভেলস এর বাসে যাওয়ার কথা। যেয়ে জানলাম ওটার টিকিট হয়নি, তাই সংগ্রাম পরিবহনে যেতে হবে। সীট ভালই ছিল। তাই সমস্যা হয় নি।

২৯ তারিখ,
সকালে বাস থেকে নেমে হোষ্ট গেলেন হোটেল খুঁজতে (অথচ হোটেল নাকি আগেই বুকিং করা!)।
কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করে আমরা ৪ জন নিজেরাই নাস্তা করে নিলাম। এসে দেখি ১ রুম নেয়া হয়েছে। ১৭ জন পুরুষ আর ১ জন নারী টুরিস্ট এর জন্য একটা সিঙ্গেল রুম। হোষ্ট জানালো, এখানে শুধু ফ্রেশ হব। আমরা অন্য হোটেলে থাকব।

সেখান থেকে মন্টু মিয়ার বাগান বাড়িতে গেলাম। হোষ্ট এর আচরন দেখেই বুঝে ফেললাম “মাইয়া পাগল”। উনার নাকি গুলসানে অফিস আছে ৮০ লাখ টাকায়, সাতক্ষিরায় সব নাকি উনাদের, আর্কিটেকচার ফার্ম আছে, মাসে উনি কোটি কোটি টাকা কামাই রেন ইত্যাদি আলাপ করে। বুঝলাম, এই ট্যুরের অবস্তা আওলা হবে। কিছু বললাম না।

সেদিন দুপুরে যেই খাবার খাওয়ানোর কথা (প্ল্যান অনুযায়ী), সেটা খাওয়ানো হয়নি। (যদিও নিম্ন মানের খাবার নিয়ে আমার আপত্তি নাই, তবে সব কিছু বলার স্বার্থে বলতে হচ্ছে)।

যেই হোটেলে থাকলামঃ
আমাদেরকে নেয়া হলো একটা হোটেলে। যার নাম “জিম হোটেল (আবাসিক)”, এর পাশেই আমাদের হোষ্ট “জিম” এর বাসা। বাসা আর হোটেল মূলত একই সাথে লাগানো।  রুম নিয়ে ভালই ক্যাচাল হলো। এটা আসলে একটা বোর্ডিং। মাত্র ২টা বাথরুম, আর সেখানে পুরুরের পানি মটর দিয়ে সাপ্লাই দেয়া হয়। রুমের আশে পাশে খাবার পানির ব্যাবস্তা নাই। প্রতিবার পানি কিনে পান করতে হয়েছে। (রাতে জানতে পারলাম আমাদের হোষ্ট নারী সদস্যকে তার বাসায় থাকার প্রস্তাব দিয়েছেন। ব্যাপারটা খুব সিরিয়াসলি আশ্চর্য করেছিল বাকি সবাইকে)।

রাতে বার্বিকিউ পার্টি হওয়ার কথা, কিন্তু হয়নি। কয়লা নাকি জ্বালাতে পারেনি।  হোষ্ট সারাদিন সারাক্ষন সেই একমাত্র নারী টুরিস্ট এর পেছনে ব্যাস্ত। তার কখন কি লাগে সেগুলার খোঁজ নেয়, ছেলেদের কোন খোঁজ নেয় না। একটু পরপর তাকে জামরুল দিয়ে যায়, এটা ওটা দিয়ে যায়। সারাক্ষন দেখি তার রুমের সামনে দাঁড়ানো। দেখতে চোখে লাগার মত দৃষ্টিকটু ছিল।

৩০ তারিখ,
সুন্দরবন যাওয়ার কথা। সকাল ৯ টায় রেডি হয়ে বসে আছি। হোষ্টের খবর নাই। জানতে পারলাম উনি মাইক্রো খুঁজতে গেছে। কিচ্ছু রেডি করা নাই! অথচ, আগে বলছে সব রেডী! ১১ টার পরে যাত্রা শুরু করলাম।

যাত্রা শুরুর সময়, আমাদের ৪ জনের গ্রুপ ভেঙ্গে ৩ ছেলেকে এক মাইক্রো তে, আর সেই নারী কে আরেক মাইক্রো তে উনার সাথে বসালেন! (আপত্তি করি নাই)। হোষ্ট কে বললাম, “ভাইয়া, আমরা ঘাষ খাই না”। বিনিময়ে হোষ্ট জানালেন, যে যেভাবে বসেছেন, ফেরার সময় ঠিক একই যাগায় বসবেন। (ব্যাপারটা খুব দৃষ্টিকটু ছিল)।

ফরেষ্ট অফিসে যেয়ে আরো দেড় ঘন্টা দেরী! কাউকে কিছু বলেও যায় নাই। দেরী হতেই পারে, কিন্তু আমাদেরকে তো একটা কিছু বলে যাবে। কিচ্ছু না বলে রাস্তায় দাড় করিয়ে সে গায়েব।
ট্রলারে উঠার সময় এক সিনিয়র ভাইয়া হোষ্ট কে বললেন পানি একটু বেশি করে নিতে। হোষ্ট বললেন, যার যার পানি কিনে নিতে! অথচ, যার যার পানি যার যার নিতে হবে, এটা শুধু উনি একাই জানলেন, আর কেউ জানলেন না। সমস্যা হয়েছে শেষে।

সুন্দরবনে ঘোরার সময়, বার বার নারী সদস্যের খোপায় হাত দেয়া। চুল ধরে ফ্লার্ট করা ব্লা ব্লা ব্লা বিষয়গুলো আনপ্রোফেশনাল ছিল। আমরা বাকি ১৬ জন (এর মধ্যে আরো ২ জন কো হোষ্ট) যতই বোঝানোর চেষ্টা করি, হোষ্ট ততই বেশি বেশি করেন।
রাতের বেলা হোষ্ট নারী টুরিস্ট কে উনার সাথে একা লিচু খেতে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়! সোজা বাংলায় যাকে বলে কু প্রস্তাব!

১ তারিখ হচ্ছে আসল ঘটনা,
মে দিবস উপলক্ষে আমাদের কোথাও যাওয়া হবে না। গাড়ি নাকি বন্ধ! সো, আমাদের ঢাকায় ব্যাক করতে হবে। খুলনা, বাগেরহাট, ষাট গম্বুজ যাওয়ার কথা ছিল সেদিন।

সারাদিন ঘরের ভেতর। নিজেরা নিজের টাকা ঘরচ করে খাওয়া আর ঘুরাঘুরি। হোষ্ট কে খুজে পাওয়া যায় না। একমাত্র নারী সদস্যকে বলে হোষ্ট কে ফোন করে আনিয়ে বাথরুমে পানির ব্যাবস্তা করা হয়। দুপুরে খাওয়ার সময় সবাই হোষ্ট কে ঝারল। আমি ছিলাম না, ঘুরতে গেছিলাম বাইক ভাড়া করে।

উনি বিকাল বেলা আমাদের বাসে উঠিয়ে দিলেন সাতক্ষিরা টু খুলনা। এখান থেকে আমাদের মেইন হোষ্ট বিদায় নিলেন! অনেক বলার পরেও উনি যাবেন না, উনার নাকি ব্যাংক এ কাজ আছে! এর পর থেকে উনি গায়েব!

রাতের জার্নি। খুলনা এসে দেখি বাসের নাম “বনফুল”। আমাদেরকে টিকিটের দাম দেখানো হয়েছে ৫৫০ করে, হেল্পারকে জিজ্ঞাসা করে জানলাম টিকিট ২৫০ টাকা করে। হোষ্ট আরো ডীস্কাউন্টে টিকিট নিছে। বাস মোড়ে মোড়ে যাত্রী উঠায়!

বাসের সীটে ঘুমানো তো দূরের কথা, ঠিকমত বসা যায় না। পা উঠায় বসলে নিচের অংশ আগায় যায়। পা রাখার পর্যাপ্ত যায়গা নাই। বিরাট প্যারা! আমাদের অনেকে ফোন দিলেন হোষ্ট কে, কারো ফোন ধরেন না। বন্ধ করে রাখেন, ডাইভার্ট করে রাখেন।
আরো অনেক অনেক সমস্যা আর ত্রুটি ছিল। আন প্রোফেশনাল ব্যাবহার, মিস বিহেভ, খাবার সময় একজনকে প্রায়োরিতি, জিজ্ঞাসা না করেই অর্ডার দেয়া, ভাল প্রশ্ন করলে ত্যাড়া করে এন্সার দেয়া ইত্যাদি তো গণনা করা সম্ভব না।

আমার লাইফের যঘন্যতম ট্যুর ছিল এটা। চরম অস্বস্তিকর। না পুলিশে কমপ্লেইন করা যায়, না মাইর দেয়া যায়। হোষ্ট বাদে বাকি ১৭ জনই বলেছেন, ট্যুর নিয়ে সব বর্ণনা করে একটা পোষ্ট লিখতে, তাই লিখলাম। আশাকরি, এখন থেকে ট্যুরে গেলে, বিশেষত নারী ট্যুরিষ্ট থাকলে খুব বুঝে শুনে, জেনে তারপর যাবেন। লেখায় টুকটাক ভুল থাকতে পারে, আশা করি ক্ষমাসুলভ দৃষ্টিতে দেখবেন। ভাল থাকবেন।

নোটঃ লেখাটি একই সাথে Travelers of Bangladesh গ্রুপে ও আমার ব্লগে প্রকাশিত।
ট্যুর এর প্রথম ও তৃতীয় দিনঃ সাতক্ষিরা জেলায় ঘুরাঘুরি
দ্বিতীয় দিনঃ সুন্দরবন ভ্রমণ

লাবিব ইত্তিহাদুল

৮৮৪০ টি সর্বমোট হিট ৪ টি আজকের হিট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *