Featured Video Play Icon

সিলেট ভ্রমণ – পা হইতে মাথা পর্যন্ত

সন্ধ্যায় বাইরে বের হব বের হব সিচুয়েশন। মাত্রই ঘুম থেকে জেগে ফ্রেশ হলাম। হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো। শুভ্রর ফোন। ধরতেই বল্ল এক জাগায় যাব নাকি। আমি বললাম কোথায়? জানালো কোন প্ল্যান নাই।যেদিকে ইচ্ছা যাবে, আমি গেলে আধা ঘন্টার মধ্যে জানাতে। কি মনে করে আমিও রাজি হয়ে গেলাম। দেখি, কোথায় যাওয়া যায়।

জীবনে বেশিরভাগ ভাল জিনিসই হয়েছে হুট করে। প্ল্যান ভেস্তে যাওয়ার পর্যাপ্ত ইতিহাস আছে জীবনে তাই প্রতিটা প্ল্যান এর প্রতি এক প্রকার অনীহা কাজ করে। তো ৯ টায় চলে গেলাম কমলাপুর স্টেশনে। শুভ্র আগেই সেখানে উপস্থিত। সে সরাসরি অফিস থেকে এসেছে। দ্রুত কাউন্টারে গেল টিকিট কিনতে। ইচ্ছা, যেখানকার টিকিট পাওয়া যায়, সেখানেই যাব। অবশেষে টিকিট পাওয়া গেল। জেলার নাম শায়েস্তাগঞ্জ। টিকিট পেয়ে দুজনেই বেশ খুশি। আরো ভাল কথা ক্যাবিন পাওয়া গেছে।

ট্রেনে বেশি দেরী করেনি। প্রায় উঠে টুকটাক গুছগাছ করতেই সানাই বাজিয়ে যাত্রা শুরু করে দিল। ট্রেনে উঠে গুগোল ম্যাপ দেখে শায়েস্তাগঞ্জ খুজে বের করলাম। অবশেষে সিলেট ভ্রমণ করা হবে তখনো আমরা কেউ জানি না। শায়েস্তাগঞ্জ ম্যাপ এ ঘুরবার মত তেমন কিছু পেলাম না। ট্রেনে পাশের যাত্রীদের থেকে জানলাম ট্রেন সিলেট পর্যন্ত যাবে। শায়েস্তাগঞ্জের তেমন কোন যাত্রীই নেই। টিটি টিকেট চেক করতে এসেও বললেন, ঘুরতে গেলে সিলেট ভ্রমণ করে আসেন, শায়েস্তাগঞ্জ কেন? শেষমেশ, নিজেরা নিজেরাও ডিসিশন নিলাম সিলেট চলে যাওয়ার। সিলেট পর্যন্ত ক্যাবিন বুকিং এর জন্য টিটি ৫০০ টাকা যায়। শুভ্র টিটিকে যেয়ে ইমোশনাল্লি ব্ল্যাকমেইল করে ২০০ টাকার মত ধরিয়ে দিয়ে রাজি করাল। 😛  আমরাও খুশি, টিটিও খুশি।

আমি রাতে ঘুমাইনি। জানালার পাশে বসে রাত আর ভোর উপভোগ করলাম। গ্রামের ভেতর দিয়ে ছুটে যাওয়া ট্রেন, বাতাসে গ্রামের গন্ধ, হালকা কুয়াশা! সে এক তীব্র একাকী আনন্দ। ভোর হতে হতে প্রচুর ছন্দ আসচ্ছিল মাথায় কিন্তু লিখতে ইচ্ছা করচ্ছিল না। মাথায় গজানো ছন্দগুলো নিকোটিনে পুড়িয়ে ছুড়ে দিচ্ছিলাম সিলেটের বাতাসে।

সিলেট পৌছুলাম সকালে। গেট পর্যন্ত টিটিই এগিয়ে দিল। এরপর শুরু হল কোন প্ল্যান ছাড়া ঘুরাঘুরি। প্রথমেই সামনে পরল সিলেটের বিখ্যাত কীন ব্রিজ আর তার নিচেই সুরমা নদী। ব্রিজের ডান পাশে সিলেট সার্কিট হাউজ। সকালে ব্রিজে দাঁড়িয়ে শান্ত সুরমা নদী দেখতে ভালই লাগচ্ছিল। এরপর পুলিশ সুপারের কার্যালয়, শহীদ মিনার পার আর কয়েকটা মোড় পার হয়ে পৌছালাম দরগাহ গেট। এটাই হযরত শাহ্‌ জ্বালাল (রঃ) এর মাজার যা এখানে দরগা শরীফ নামে বেশি পরিচিত। মাজার ঘুরে হোটেলে ঢুকলাম। চেক ইন করলাম অনুপম হোটেলে। দুই সিঙ্গেল বেড সহ বেশ গুছানো হোটেল। বেশ আড্ডা জমল। ফ্রেশ হয়েই বেরুলাম শহর ঘুরতে। দেখা হলো পুরাতন আর প্রিয় কিছু মানুষের সাথে। একাধারে প্রায় সবগুলো মোড়, এয়ারপোর্ট, মিরা বাজার, শাহ্‌ জ্বালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মালনিছড়া চা বাগান আর সাথে অনেক হইচই, মজা আর ছবি তোলা।

সিলেট এর বিখ্যাত রাতারগুল যাওয়ার ইচ্ছা থাকলেই শুকনার মৌসুম বলে গেলাম না। রাতে টায়ার্ড হয়ে রুমে ফিরলাম, বেশ ভাল ঘুম হলো। সকালে উঠেই লালাখাল যাওয়া। সেটা আরেক ইতিহাস। পুরোটাই আছে ভিডিওতে। লিখতে টায়ার্ড লাগে তাই আর লিখলাম না।

এর পরেও সিলেট গিয়েছি। অন্য গ্রুপের সাথে। ঘুরে দেখেছি লালাখাল, আগুন পাহাড়, জাফলং একদিনে, অন্য আরেকদিনে ঘুরেছি বিছানাকান্দি আর রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট। ২টা আলাদা ট্যুর এর মজা ২ রকম। কোনটাই ভুলে যাওয়ার মত না।

১১৭৭২ টি সর্বমোট হিট ৪ টি আজকের হিট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *